একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ব্যালট বাক্সে জমা হওয়া ভোটপত্রই মূল ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনের উত্তেজনা এবং ফল ঘোষণার অপেক্ষার পর শুরু হয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—সরকার গঠন। সাধারণ মানুষের চোখে প্রক্রিয়াটি সহজ মনে হলেও এর প্রতিটি ধাপ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নিয়মে সুসংহত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয় ফলাফল থেকে গেজেট প্রকাশ, সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সরকার গঠনের মাধ্যমে। নিম্নে বাংলাদেশে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো—
১. ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা
নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রিজাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন এবং রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে বেসরকারি ফল প্রকাশ করা হয় এবং নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করে।
২. গেজেট প্রকাশ
নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের নাম, ঠিকানা ও নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ করে সরকারি ‘গেজেট’ প্রকাশ করে। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আইনি বৈধতা নিশ্চিত হয়।
৩. সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ
গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। সাধারণত স্পিকার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ান। স্পিকার না থাকলে প্রধান বিচারপতি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ানোর এখতিয়ার রাখেন।
৪. সংসদ নেতা নির্বাচন
শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক ডেকে নেতা নির্বাচন করে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কেই সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।
৫. রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ ও প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ
সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিকে তার নাম জানানো হয়। সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সেই সদস্যকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যার প্রতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা রয়েছে।
৬. মন্ত্রিসভা গঠন ও শপথ
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর নিয়োগ দেন। এরপর বঙ্গভবনে আয়োজনকৃত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দফতর বণ্টন ও গেজেট প্রকাশ করে।
৭. প্রথম সংসদ অধিবেশন
মন্ত্রিসভা গঠনের পর রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। এতে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয় এবং নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
